স্টাফ রিপোর্টার | ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলাকলি প্রতীকে ঢাকা-৮ আসনের জন্য নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারির দাখিল করা মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন একসেপ্টেড হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে দলটি জানিয়েছে, দেশ একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিক্রিয়ায় দলীয় নেতারা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে—এমন প্রত্যাশা তারা রাখেন। তবে নির্বাচনকে ঘিরে কিছু অস্বস্তির জায়গাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
তাদের ভাষায়, জাতীয় পার্টি সারাদেশে প্রার্থী দেওয়ায় রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গত ১৫ বছরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বা “স্মার্ট বাংলাদেশ”-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিদ্যমান রয়েছে।
নেতারা বলেন, কাগজপত্র ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এখনো প্রাগৈতিহাসিক ধাঁচের জটিলতা দেখা যায়। ভবিষ্যতে যারা সরকার গঠন করবে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোট—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হবে একটি প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেওয়া, যাতে এসব জটিলতা আর না থাকে।
ঢাকা-৮ আসনের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ আচরণ লক্ষ্য করা গেছে এবং কর্মকর্তারা সবার সামনে কথা বলেছেন। তবে কিছু এলাকায়—যেমন দেবীর দ্বার এলাকায়—ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত আপত্তির এখনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া প্রশাসনের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। যদিও ঢাকা-৮ আসনে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখা যায়নি বলে জানান দলীয় নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে একটি পলিসি বেইসড ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে পেশিশক্তির মহড়া, মাফিয়াতন্ত্র বা সহিংসতা থাকবে না বলেও তারা আশা করেন।
তবে সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
নেতারা জানান, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি এবং মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে গঠিত জোটের অংশ হিসেবেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য আসনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং যেসব আসনে বাস্তবসম্মতভাবে জয় সম্ভব—সেসব আসনে বিজয় নিশ্চিত করা।
তারা আরও জানান, সারাদেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি মোট ৪৭টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এর মধ্যে একটি আসনে নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তা গ্রহণ হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কমিশনের দৃশ্যমান ভূমিকা খুবই সীমিত। পোস্টারিং ও রাজনৈতিক শোডাউনসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের ভাষায়, কোনো কমিশনার আগ বাড়িয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি বলে বক্তব্য দিলে তা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। এমন কমিশনারদের দ্রুত পদত্যাগ করা উচিত।
শেষে তারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-৮ আসনে শাপলাকলি প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।





