ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টা অগণতান্ত্রিক, মেনে নেবে না ছাত্রসমাজ: সাদিক কায়েম

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অব্যাহত রাখার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা—এমন মন্তব্য করেছেন ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই প্রতিটি ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে—এটাই জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পাসে সফলভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু) এবং সর্বশেষ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যশু) শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

সাদিক কায়েম বলেন, এসব নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে নীতিনির্ভর বিতর্ক, সংলাপ এবং ক্যাম্পাস ও দেশ নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে। এর মাধ্যমে সারা দেশে একটি ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্যাম্পাসে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাস্তবায়নে অপচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ঘিরে নানা অজুহাতে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন স্থগিতের উদ্যোগকে তিনি অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দেন।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তিন সপ্তাহ আগে নির্বাচন বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ছাত্রসমাজ এই ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

সাদিক কায়েম বলেন, প্রায় চার কোটি তরুণ এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত তরুণদের আস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে দেশের সব ছাত্রসমাজ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের পক্ষে মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন চালানো হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আগামীকাল প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

তিনি বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি উঠে এসেছে, তা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয় নিশ্চিত করা।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা মূলত ফ্যাসিবাদী কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। ছাত্রসমাজ ও দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জয়-পরাজয় নয়, বরং জুলাই প্রজন্মের বিজয় নিশ্চিত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের যে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে।