স্টাফ রিপোর্টার, ২৮জানুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশের ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পটভূমি ও তাৎপর্য অতীতের 12টি নির্বাচনের সঙ্গে তুলনীয় নয়। নির্বাচন হবে 12 ফেব্রুয়ারি 2024, যা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আলী রিয়াজ বলেন, “এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোটের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাবনাকে পরিমাপ করবে। অতীতে তিনবার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ এসেছে – 1972, 1991 এবং 2009 সালে – কিন্তু তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ শাসন করবেন রাজনীতিবিদরা। অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা সীমিত। সংবিধান বা কমিশনের এজেন্ডা যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কোন সংস্কার রাখবে এবং কোন পথে দেশকে এগিয়ে নেবে।”
আলী রিয়াজের মতে, ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যদি আগের নির্বাচনের মতো ‘বিজনেস এজ ইউজুয়াল’ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভব। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা এবং ঐক্যমতের ভিত্তিতেই আগামী পদক্ষেপ নির্ধারণ হবে।”
জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট নয় মাস ধরে অংশগ্রহণ করেছেন। আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজন। তাগিদ না থাকলে রাজনৈতিক দল এত দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করত না।
আলী রিয়াজ আরও বলেন, “বিদ্যমান সংবিধান ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই সংবিধান অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।”
তিনি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজস্ব অবস্থান থেকে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এটি করতে পারে না, কারণ তাদের ভূমিকা সংজ্ঞায়িতভাবে সীমিত।”





