স্টাফ রিপোর্ট | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে ভোটার, অন্য কেউ নয়। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এক সুতা যেন নড়চড় না হয়। কেউ পক্ষপাতিত্ব করলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কঠিন ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের চোখে সমান। দলীয় বা স্বতন্ত্র যেই হোন না কেন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো স্থান নেই। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।
সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং হবেও না। সকল ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সেটাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ভোটার যে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা মতাদর্শেরই হোক না কেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। দুই-চারজনের অপচেষ্টায় যেন কোথাও পরিবেশ নষ্ট না হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক। নির্বাচন সফল করতে তিনটি বিষয়ের ওপর বারবার জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, স্বচ্ছতা। যা করা হবে, তা খোলামেলাভাবে করতে হবে। গোপন কিছু রাখা যাবে না। দ্বিতীয়ত, নিরপেক্ষতা। নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তৃতীয়ত, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, যাতে সব ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
তিনি বিশেষভাবে বয়স্ক, আহত, অক্ষম ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ভোটার এবং সন্তানসম্ভবা নারীদের সহায়তার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের সময় এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। আনসার সদস্যদের প্রয়োজন হলে এসব ভোটারকে শারীরিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনাও উল্লেখ করেন।
দোতলা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনে সহায়তা করে ভোটারকে উপরে উঠানো বা বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনা আগে থেকেই রাখতে হবে বলে নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনার।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনকে সার্থক ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোটারই শেষ কথা বলবে, সেটি নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য।





