স্টাফ রিপোর্টার,১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬নিউজ চ্যানেল বিডি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করা হবে না। কেউ ইন্টারনেট বন্ধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক পুরনো শব্দ। কেউ বলবে আছে, কেউ বলবে নেই। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে।”
দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা সবসময় বলেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নেই। এখানে কয়েকজন সাংবাদিকের কথা বলা বন্ধ করতে সময় লাগে। সেখানে ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সহজ নয়।”
তিনি জানান, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ভালো। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে যে স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে, অতীতে তা ছিল না। ইন্টারনেট বা ফেসবুক বন্ধ করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকরা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করার পরিবেশ ছিল না। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্য তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব সাংবাদিকদের। জনগণ যেন সঠিক তথ্য পায়, সে জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অনেক সহিংসতার ঘটনা একই দল বা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে ঘটছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেই এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





