ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০২৫: প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্যান্য ক্যাডারের ৭৮ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির সুপারিশ করেছে সরকারের গঠিত বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি। গত ২০ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ-সংক্রান্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিবেদন পেশ করা হয়।
পদোন্নতির ধরন
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী—
১২ জন গ্রেড-১,
৩২ জন গ্রেড-২ এবং
৩৪ জন গ্রেড-৩ পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাবেন।
ধাপভিত্তিকভাবে ৬ জনকে তিন ধাপ, ১৭ জনকে দুই ধাপ এবং ৫৫ জনকে এক ধাপ পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আবেদন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া
এই পর্যায়ে মোট ৩১৮ জন কর্মকর্তা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে—
৬৮টি আবেদন কমিটির আওতায় ছিল না,
৪০টি আবেদন অসম্পূর্ণ হওয়ায় বাতিল হয়।
অতএব, ২১০টি পূর্ণাঙ্গ আবেদন বিশ্লেষণ করে ৭৮ জনকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ১৩২ জন কর্মকর্তাকে সুপারিশের বাইরে রাখা হয়েছে, এবং তাদের বঞ্চনার কারণ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি মোট ১৪টি বৈঠক করে এ আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করেছে।
প্রথম পর্যায়ের পদোন্নতি
এর আগে, গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কমিটির প্রথম পর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন ক্যাডারের ৭৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১১৯ জন সচিব পর্যায়ে এবং প্রায় ৫০০ জন অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে উন্নীত হন।
কমিটির গঠন ও মেয়াদ
অবসরপ্রাপ্ত অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির দায়িত্ব ছিল ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিজীবনে বঞ্চনার শিকার হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করা।
গুরুত্ব ও প্রতিক্রিয়া
প্রশাসন ক্যাডারের পর এবার অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য পদোন্নতির সুপারিশকে দীর্ঘদিনের অবিচার নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাদ পড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য সমাধান খোঁজাই আমাদের লক্ষ্য। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের অবসান ঘটবে বলে আশা করি।”





