আইসিটির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না

বাংলাদেশের মানুষ অর্থবিত্ত নয়, কথা বলার স্বাধীনতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়—ড. মঈন খান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের ভিত্তি প্রথম স্থাপন করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—এই ঐতিহাসিক সত্য ভুলে গেলে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। তিনি বলেন, আজ বিভিন্ন সরকার নানা সাফল্যের প্রচার চালালেও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে আইসিটির প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে।

ড. মঈন খান বলেন, “ইন্টারনেট হাইওয়েতে প্রবেশের দ্বার বাংলাদেশে প্রথম খুলে দেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সাবমেরিন কেবল সংযোগের উদ্যোগ গ্রহণ এবং একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইসিটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা—সবই ছিল তার রাষ্ট্রনায়কসুলভ চিন্তার প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, পূর্বসূরীদের অবদান অস্বীকার করে সামনে এগিয়ে গেলে জাতি হিসেবে আমরা তাদের প্রতি সুবিচার করতে পারব না। ইতিহাসের স্বীকৃতির মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের পথে এগোতে হবে।

গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

গণতন্ত্র প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মূলত ওয়েস্টমিনস্টার মডেল অনুসরণ করে গড়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের চর্চা ভিন্ন হলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষকে যদি একদিকে অর্থবিত্ত, ভোগবিলাস আর অন্যদিকে কথা বলার স্বাধীনতার মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়, তবে বাংলাদেশের মানুষ নির্দ্বিধায় স্বাধীনতাকেই বেছে নেবে।”

আপসহীন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের উদাহরণ তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা প্রসঙ্গে একবার তিনি তাকে আদালতে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তখন দেশনেত্রী বলেছিলেন, “ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি নিয়ম ভাঙতে পারি না। আমি প্রতিবাদ করব এবং আইনের মাধ্যমেই তা মোকাবেলা করব।”

তিনি বলেন, এই আপসহীন নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার হয় এবং ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের সৃষ্টি হয়।

নির্বাচন ও জনগণের প্রত্যাশা

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকামী—তারা কথা বলতে চায়, ভোট দিতে চায়। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমেই জনগণের শ্রেষ্ঠত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ আবারও একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।