স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পর্যবেক্ষক দল না পাঠালেও নিজ উদ্যোগে ও অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর রাখবে।
আজ সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্বাচন উপলক্ষে তাদের কোনো সরকারি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক দল আসতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাস ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নিজ উদ্যোগে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
ইসি সচিব আরও জানান, এসব পর্যবেক্ষণ কোনো আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের অংশ নয়। ভোটের সামগ্রিক অবস্থা জানতেই তারা এ উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তাদের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের কৌতূহল বেশি ছিল বলে জানান আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির কথা তাদের জানানো হয়েছে এবং নমুনা ব্যালটও দেখানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিরা এটিকে একটি জটিল ও কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করলেও কমিশনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সফল নির্বাচন আয়োজনের কামনা করেন।
এছাড়া বৈঠকে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেলের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, নির্বাচনে প্রায় সাড়ে নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন। এ তথ্য শুনে মার্কিন পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
আখতার আহমেদ বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তারা আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত), ইসি সচিব আখতার আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।





