আয়কর রিটার্ন ও হলফনামা নিয়ে অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: সার্জিস আলম

আইনগতভাবে সংশোধন করা তথ্যকে দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি এনসিপির

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

পঞ্চগড়–১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর আয়কর রিটার্ন ও হলফনামা নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির নেতা সার্জিস আলম।

তিনি বলেন, প্রথমে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে হলফনামার তথ্যে গড়মিল দেখিয়ে এমন একটি ফ্রেমিং করা হয়েছে, যেন এখানে দুর্নীতি বা অসৎ উপার্জনের বিষয় রয়েছে। অথচ মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সবার সামনে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে মনোনয়নপত্রের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিক ছিল বলেই সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সার্জিস আলম জানান, আয়কর রিটার্নের তথ্য থেকে হলফনামা প্রস্তুতের সময় একটি অনিচ্ছাকৃত টাইপিং ভুল হয়েছিল। যেখানে আয়ের পরিমাণ ৯ লাখ টাকা লেখার কথা ছিল, সেখানে ভুলক্রমে ২৮ লাখ টাকা লেখা হয়। বিষয়টি সেদিনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেন এবং আইন অনুযায়ী সংশোধিত সম্পূরক হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংশোধিত সম্পূরক হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে, যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বৈধ। এরপরও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক।

এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাক্টিভিস্ট তথ্য যাচাই না করেই বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন একজন প্রার্থীকে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরা যায়। এটি একটি পরিকল্পিত মানহানি ও রাজনৈতিক হয়রানি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে সার্জিস আলম বলেন, তদন্তে সত্যতা না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্টগুলো পরে মুছে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে একজন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে, যার আর কোনো প্রতিকার থাকে না।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ও ফান্ডেড কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাক্টিভিস্ট এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর প্রপাগান্ডা অব্যাহত থাকলে তা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

সার্জিস আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে দেশের যেকোনো সংস্থা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে। তদন্তে এক টাকার অনিয়মও প্রমাণিত হলে তিনি আইনগত সব ব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে ভিত্তিহীন রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সবশেষে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মতামত গড়ে তুলতে।