স্টাফ রিপোর্টার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং ইতালির Leonardo S.p.A.–এর মধ্যে ইতোমধ্যে একটি লেটার অব ইনটেন্ট (LOI) সই হয়েছে।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের যৌথভাবে নির্মিত এই যুদ্ধবিমান বিশ্বের বহু উন্নত দেশের বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। শক্তিশালী ইঞ্জিন, উন্নত রাডার এবং ভয়ংকর আক্রমণক্ষমতার কারণে এটি বর্তমানে ৪.৫+ জেনারেশনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাল্টিরোল ফাইটার হিসেবে পরিচিত।
টাইফুনের বহুমুখী যুদ্ধক্ষমতা
ইউরোফাইটার টাইফুনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বহুমুখী যুদ্ধক্ষমতা। বিমানটি যে কাজগুলো করতে পারে—
- আকাশে শত্রু দমন
- দূর পাল্লায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা
- নজরদারি ও গোয়েন্দা মিশন
- ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা
- শত্রু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা
একই প্ল্যাটফর্মে এতগুলো ভূমিকা কার্যকরভাবে পালন করতে পারার কারণে টাইফুনকে বিশ্বের অন্যতম স্মার্ট ও শক্তিশালী জেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গঠন, ইঞ্জিন ও গতি
- দৈর্ঘ্য: 15.96 মিটার
- প্রস্থ (উইংস্প্যান): 10.95 মিটার
- খালি ওজন: ১১ টন
- সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন: ২৩.৫ টন
বিমানটিতে ব্যবহৃত হয়েছে দুটি EJ200 টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যা ঘন্টায় প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম করে। এটি সর্বোচ্চ ৫৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উঠতে পারে এবং একটানা প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার উড়ে যেতে পারে জ্বালানি পুনরায় না নিয়েই।
রাডার ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি
প্রথম দিকে ASEA রাডার ব্যবহার করা হলেও নতুন সংস্করণে দেওয়া হয়েছে উন্নত CAPTOR-E AESA রাডার। এটি—
- একসঙ্গে বহু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারে,
- স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী টার্গেট ধরতে সক্ষম,
- জ্যামিং প্রতিরোধী ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সহায়ক।
এছাড়া রয়েছে—
- NATO মানের সিকিউর ডেটা লিংক,
- আধুনিক সেন্সর ও সেন্সর ফিউশন সিস্টেম,
- ইলেকট্রনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Electronic Counter Measures),
- হেলমেট-মাউন্টেড টার্গেটিং সিস্টেম।
অস্ত্রসম্ভার ও আক্রমণ ক্ষমতা
টাইফুনে রয়েছে ১৩টি হার্ডপয়েন্ট, যেখানে বিভিন্ন ধরনের আকাশ-থেকে-আকাশ ও আকাশ-থেকে-স্থল অস্ত্র বহন করা যায়।
আকাশ-থেকে-আকাশ মিসাইল
- Meteor
- IRIS-T
- AIM-120 AMRAAM
- ASRAAM
আকাশ-থেকে-স্থল অস্ত্র
- Storm Shadow ক্রুজ মিসাইল
- Brimstone অ্যান্টি-আর্মার মিসাইল
- Paveway গাইডেড বোমা ও অন্যান্য স্মার্ট বোমা
অভ্যন্তরীণ কামান
- 27 মিমি Mauser Cannon
বিমানের গঠনে ধাতবাংশ মাত্র ১৫ শতাংশ হওয়ায় রাডারে ধরা পড়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম, যা গোপন সামরিক অভিযানে বাড়তি সুবিধা দেয়।
বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করতে ইউরোফাইটার টাইফুন একটি যুগান্তকারী সংযোজন হতে পারে। এর মাধ্যমে—
- আকাশসীমা রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে উঠবে,
- সমুদ্রসীমা ও দূরবর্তী এলাকায় নজরদারি ক্ষমতা বাড়বে,
- ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও স্ট্র্যাটেজিক মিশনে আধুনিক সক্ষমতা অর্জিত হবে,
- দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় উন্নত ফাইটার জেট ব্যবহারের সুযোগ পেতে যাচ্ছে, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।





