স্টাফ রিপোর্টার, ৩ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মৃত্যুর প্রায় সাত দিন পর উদ্ধার হওয়া নূরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য সঠিক বলেই জানা গেছে।
নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। তার বর্তমান কর্মস্থল মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনি ১৯৮৬ সালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
সরকারি চাকরি জীবনে তিনি পরিকল্পনা কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের উপ-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই স্কুল অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে এমপিপি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক এবং বেসরকারি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৩২তম ব্যাচের প্রাক্তন ক্যাডেট। ১৯৮৯ সালের এসএসসি এবং ১৯৯১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালে বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং ২০০১ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে কম্পিউটিং সায়েন্সে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
নূরজাহান বেগমের মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা মিরপুরের ইম্পেরিয়াল স্কুলের একজন শিক্ষিকা। অপর ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। তার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন বৃদ্ধা মায়ের দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা ও মৃত্যুর পর কয়েকদিন অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনা পরিবার ও সমাজে প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে




