স্টাফ রিপোর্টার | জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এবারের নির্বাচনে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য দুইটি করে ভোট থাকবে। একটি ভোট হবে সরকার গঠনের জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে এবং অপরটি হবে গণভোটে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের বিপরীতে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
ভোটের গাড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা, সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে, সেই জুলাই সনদের ওপরই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই গণভোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আপনারা আমাদের দলকে ভোট না-ও দিতে পারেন, কিন্তু অন্তত সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। দল-মত নির্বিশেষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া এখন প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের পর যে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে রূপ নেবে। অন্যদিকে ‘না’ জয়ী হলে দেশ আবারও পুরোনো ব্যবস্থাতেই থেকে যাবে, যেখানে সরকার বদলালেও শাসনব্যবস্থার কোনো মৌলিক পরিবর্তন হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আগের সিস্টেমে সবচেয়ে ভালো মানুষকে সরকারে বসালেও দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই সরকার গঠনের ভোটের চেয়েও এই গণভোট বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি নির্বাচন পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোট, সংস্কার এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ধারাবাহিক ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা তারা স্পষ্ট করছে না। এতে ভবিষ্যতে কর ও ভ্যাট বাড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্থ দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির শিকার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “১০ টাকায় চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সরকার দেশটাকে ছারখার করে দিয়েছিল। এবার জনগণ অনেক বেশি সচেতন।”
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এবার ভোট কেনা যাবে না এবং সস্তা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না। তরুণ সমাজ ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এবারের ভোট শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়, এটি গণঅভ্যুত্থানের পরের ভোট—যে ভোট বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বছর এগিয়ে নিতে পারে।”





