এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে গতি ও জবাবদিহিতার ওপর জোর: যোগাযোগমন্ত্রী

সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে মেগা প্রকল্পই হয়ে ওঠে অর্থনীতির বোঝা


স্টাফ রিপোর্টার | ৬ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রস্তাবিত প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে, ঢাকাকে এড়িয়ে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ২০–৩০ কিলোমিটার হলেও প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে ৯০–১০০ কিলোমিটার গতিতে যাতায়াত সম্ভব হবে, যা পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের গতি আনবে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকও হতে পারে।

তবে বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে বড় বড় প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা, অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা এবং অর্থ অপচয়ের অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, চার বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে, যা রাষ্ট্রের জন্য বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট সময় ও ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করতে না পারলে তা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে এমন হয়েছে, ভবিষ্যতেও যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”

যোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠিত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান প্রকল্প নিয়ে বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখে, যা উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদের অর্থ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করতে শিখতে হবে। তাহলেই মেগা প্রকল্পগুলো থেকে জনগণ প্রকৃত সুফল পাবে।”

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অনেক সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী, তবে সেই সুযোগ গ্রহণে আমাদের সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গতানুগতিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে এসে দেশপ্রেম, দক্ষতা, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকারের লক্ষ্য উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনীতি ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।