কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় জোর দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)-এর একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে বাসসকে এ তথ্য জানান।

সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর তাগিদ

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত আমলে রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। নানা ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ঢালাওভাবে মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ার কারণে দেশে অদক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষায় বাড়াতে হবে গুরুত্ব

ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশ আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।

উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে এপিইউবির প্রস্তাব

সাক্ষাৎকালে এপিইউবির প্রতিনিধিরা দেশের উচ্চশিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

তারা কর্মদক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রয়োজন, বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও গুণগত মান বিবেচনার প্রস্তাব দেন।

যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান, গবেষণা, পেটেন্ট ও বাণিজ্যিকীকরণের পূর্ণ সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে কর্মসংস্থানযোগ্য করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন এপিইউবির প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সহায়ক ও উন্নয়নমুখী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবিও জানান তারা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা

রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার প্রসার, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

এপিইউবি প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেন

এপিইউবি চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ ও কে. বি. এম. মঈন উদ্দিন চিশতি, ট্রেজারার কায়ুম রেজা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কাসেম হায়দার, কাজী জাহেদুল হাসান ও নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।