খালেদা জিয়ার শোককে নির্বাচনী হাতিয়ার নয়, জাতি বিনির্মাণের শক্তি করতে চাই—সালাউদ্দিন আহমেদ

মনোনয়ন বাতিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, আইনি বাস্তবতা; বিকল্প প্রার্থীই চূড়ান্ত হবেন—ব্যাখ্যা বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের

স্টাফ রিপোর্টার | ১ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক ও ত্যাগকে বিএনপি কোনো দলীয় সংকীর্ণ নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। “আমরা সত্যিকার অর্থেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাই, তবে সেই শক্তি নির্বাচনের কাজে নয়—জাতি বিনির্মাণের কাজে ব্যবহার করতে চাই,” বলেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং সম্পূর্ণভাবে একটি আইনি বিষয়।

তার ভাষায়, “যেহেতু তিনি শারীরিকভাবে আর জীবিত নেই, সে কারণে জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর কোনো লিগাল এন্টিটি বিদ্যমান নেই। ফলে তাঁর মনোনয়নপত্র আইনগতভাবেই টিকে থাকার সুযোগ নেই এবং তা স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।”

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার প্রয়োজন পড়ে না। আইন অনুযায়ী তা এমনিতেই কার্যকর থাকে না।

সালাউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, সংশ্লিষ্ট আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে আগে থেকেই বিকল্প প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া রয়েছে।

“আইন অনুযায়ী যদি বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যায়, তাহলে তিনিই চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন। এখানে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, কিংবা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার মতো কোনো আইনি অবকাশও নেই,” বলেন তিনি।

নির্বাচন স্থগিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “মনোনয়ন বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো, তাহলে আইনগত জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারত। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে তা নয়। বাছাইয়ের আগেই যেহেতু এই ঘটনা ঘটেছে, তাই নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আইনের দৃষ্টিতে যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া আর লিগাল এন্টিটি হিসেবে বিদ্যমান নন, সেহেতু তাঁর মনোনয়নপত্র টিকে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী যদি আইনগতভাবে বৈধ থাকেন, তিনিই প্রার্থী হবেন—এটাই আইন।”