গোপালগঞ্জ শহর দিনভর হামলা, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের পর বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গোপালগঞ্জ শহর দিনভর হামলা, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের পর বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৫) জাতীয় নাগরিক…

Posted by:

on

গোপালগঞ্জ শহর দিনভর হামলা, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের পর বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৫) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ:

  • জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে উত্তেজনা ছিল।
  • দুপুরের পর এনসিপির সমাবেশস্থলে হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সমর্থক ছিল।
  • হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করে এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
  • এনসিপি নেতারা সভা শেষে গাড়িবহরে করে সমাবেশস্থল ত্যাগ করার সময় তাদের ওপর হামলা হয়, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
  • পরিস্থিতি দ্রুত রণক্ষেত্রে রূপ নেয়, যেখানে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
  • সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), সোহেল রানা মোল্লা (৩০) এবং ইমন তালুকদার।
  • আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
  • পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গেও হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতাদের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
    বর্তমান পরিস্থিতি:
  • সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং গতকাল রাত ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, র্যাব এবং পুলিশ টহল দিচ্ছে।
  • আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গোপালগঞ্জে স্থগিত করা হয়েছে।
  • জাতীয় নাগরিক পার্টি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
    বর্তমানে শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা এবং দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।