জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

গণতন্ত্র, ন্যায়পরায়ণতা ও আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

পবিত্র মাহে রমাদান শুরুর প্রাক্কালে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। ভাষণের শুরুতেই তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত নতুন সরকার একটি জবাবদিহিমূলক ও তাবেদারমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই অভিযাত্রায় তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য এই দেশ সমান। একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তির কোনো স্থান থাকবে না। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি।

রমাদান উপলক্ষে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, এই পবিত্র মাসকে অতিরিক্ত মুনাফার সময় হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস হিসেবে বিবেচনা করতে। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ক্রেতা-বিক্রেতার স্বার্থরক্ষায় সরকার যে কোনো পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণে প্রস্তুত বলেও জানান।

গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বিএনপির সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে—কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বা প্লট সুবিধা নেবেন না। এটিকে তিনি ন্যায়পরায়ণতার আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের কথাও জানান তিনি। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং পরিবেশের উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরই দেশের বড় সম্ভাবনা। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে হলে তরুণদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রস্তুত বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশে ফিরে তিনি যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। যারা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, সবার জন্যই এই সরকার সমানভাবে কাজ করবে। দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণের শেষে তিনি দেশবাসীর সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন দেশ ও জনগণকে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার তৌফিক দান করেন।