জাপা কার্যালয় ঘিরে সংঘর্ষ: আইসিইউতে নুর, নিন্দায় বিএনপি

ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ের সামনে গণ অধিকার পরিষদের মিছিলে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সংগঠনের সভাপতি…

ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ের সামনে গণ অধিকার পরিষদের মিছিলে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সংগঠনের সভাপতি নুরুল হক নুর। তার চোখ, মুখ ও নাকে মারাত্মক জখম হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সেমি-সেন্সলেস অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাপা অফিসের সামনে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এরপর গণ অধিকার পরিষদ ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। এ সময় যৌথবাহিনী সেখানে গিয়ে বেপরোয়া লাঠিচার্জ চালায়।

সংবাদ সম্মেলনে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন,
“আমরা যখন শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে কাকরাইল এলাকায় পৌঁছাই, তখন জাপার নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও আমাদের উপর এভাবে হামলা হয়নি। আমাদের অফিসে ঢুকে নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক লাঠিচার্জ চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ বর্তমানে জাতীয় পার্টির কাঁধে ভর করে রাজনীতিতে ফিরতে চাইছে। এজন্য জাপা কার্যালয়ের সামনে আমাদের মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের সহযোগী ১৪ দলের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি দিয়েছে।

এ সময় রাশেদ খান জানান, লাঠিচার্জে নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে বুট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার নাক ও চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাশেদ খান নিজেও আহত হয়েছেন—তার হাতে গভীর ক্ষত ও আঙুল ভেঙে গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন,
“নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার নাক ও চোখে আঘাত লেগেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই। তদন্ত করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সংঘর্ষের পর কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন,
“গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ নেতাকর্মীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির উপর হামলা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে। নুরের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

এ ছাড়া এনসিপি নেতৃবৃন্দ সার্জিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামেও এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।

Kakrail Clash, Nurul Haque Nur, Dhaka Newschannelbd,