স্টাফ রিপোর্টার | ২ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশের আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃবৃন্দ। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন আল্লাহ তায়ালা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন।
ডাকসু নেতারা জানান, ডাকসুর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার উদ্দেশ্যে তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় ডাকসুর পাঁচজন সদস্য শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ডাকসু প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদসহ দেশের ছাত্র সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠক শেষে ডাকসু নেতারা বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
ডাকসু নেতারা আরও বলেন, শহীদরা যে স্বপ্নের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে এক কাতারে আসতে হবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে একসাথে কাজ করার পরামর্শ দেন তারেক রহমান।
তারা অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই বিভাজনের সুযোগ নিয়ে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও বিদেশি আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা জরুরি।
ডাকসু নেতারা বলেন, গত ১৬ বছরে দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভবিষ্যতে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন নিশ্চিত করতে ছাত্র সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত গণভোটে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এছাড়া বৈঠকে শহীদ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও আলোচনা হয়। ডাকসু নেতারা বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে শহীদ উসমান হাদি জীবন দিয়েছেন। অথচ এখনো এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও শুটারদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান তারা।
বক্তব্যের শেষাংশে ডাকসু নেতারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি হতে হবে বাংলাদেশকেন্দ্রিক—যেখানে দেশের মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সর্বাগ্রে স্থান পাবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া যে রাজনীতির দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সেই আদর্শের ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, পতিত ফ্যাসিবাদীদের বিচার এবং শহীদ উসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।





