ঢাকা-৬ আসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ইশরাক হোসেন

নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির আহ্বান, গ্যাস সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি বিএনপি প্রার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেলবিডি

ঢাকা:
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি আগামীর বাংলাদেশ এবং ঢাকা-৬ আসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের মোট ভোটারের গড়ে ৫২ শতাংশ নারী এবং ঢাকা-৬ আসনে নারী ভোটারের হার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক নারী ভোটারই নির্ধারণ করবে কে নারীদের ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও সমান অধিকারে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন, সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই যারা প্রকৃতভাবে বিশ্বাসী, তাদেরকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ একটি রাজনৈতিক দল নারীদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। কখনো নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো, আবার কখনো ঘরে আটকে রাখার মতো পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, যা নারীর স্বাধীনতার পরিপন্থী।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অনেকে ভাবেন ধানের শীষের জোয়ার আছে, আমি ভোট দিতে না গেলেও প্রার্থী জিতে যাবে—এটা করবেন না। একটু কষ্ট করে হেঁটে হলেও, লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও ভোট দিতে হবে। নারীদের উপস্থিতি ছাড়া এই বিজয় সম্পূর্ণ হবে না।”

বিএনপির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন গৃহবধু থেকে বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়ে প্রমাণ করেছেন—নারী নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কোনো সংকীর্ণতা নেই।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, “নারী নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। কর্মক্ষেত্র হোক বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব জায়গায় নারীরা সমান অধিকার পাবে।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনো পদ-পদবির জন্য রাজনীতিতে আসেননি; এসেছেন সংগ্রাম ও লড়াই করার জন্য, বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

তিনি বলেন, দল তার কাজ ও কমিটমেন্টের ওপর আস্থা রেখেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতায় কোনো ঘাটতি থাকবে না—ইনশাল্লাহ।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিন লাখ ৯৮ হাজার ভোটারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই সবাইকে তার পক্ষে প্রচার চালানো এবং অন্যদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ জানান।

এলাকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস সংকট বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংকট সমাধানে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

শেষে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে সুযোগ দিন, আমি আপনাদের হতাশ করবো না। আপনাদের আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দিতেও প্রস্তুত।”