নির্বাচনকে সামনে রেখে কোস্টগার্ডকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ

সীমান্ত ও সমুদ্র নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক প্রশংসা, আধুনিকায়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্ট,৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সীমান্তবর্তী নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে সমুদ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেও বাহিনীটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি জানান, কোস্টগার্ডের এই অবদানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাহিনীটির প্রশংসা করেছে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কোস্টগার্ড বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রায় ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১০০ প্লাটুন কোস্টগার্ড সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনে আপনাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তি, দল বা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কেউ জড়াবেন না। আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী। কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কেউ কাজ করলে তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

কোস্টগার্ডের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হাইস্পিড বোট, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ও সার্ভেইলেন্স কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের দেওয়া ১২টি সার্ভেইলেন্স ড্রোন ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার, রেসকিউ ড্রোন ও কোস্টাল সার্ভেইলেন্স সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পদক বিতরণ অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ড সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতি। পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তারা সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।