স্টাফ রিপোর্টার | ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জাতীয় নির্বাচন কোনো কারণে পিছিয়ে গেলেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন যেন না পেছায়—সেজন্য আগে গণভোট করার ওপর জোর দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বুধবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমনওয়েলথের ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা এবং ‘প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্টের প্রধান’ লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাহের বলেন, “কোনো কারণে যদি জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে নাও হইতে পারে, আমরা আশা করি সঠিক সময়ে ইনশাআল্লাহ হবে, তখনও তো জুলাই সনদ পাস করতে হবে। জুলাই সনদ তো সংস্কারের বিষয়। সুতরাং দুটো বিষয়কে একসাথে জুড়ে দেওয়া কখনো সঠিক মনে করি না, কারণ এতে জুলাই সনদ অনিশ্চয়তার দিকে যেতে পারে।”
‘নির্বাচনের আগে গণভোটই যথার্থ’
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সাংবিধানিক আদেশ জারি করে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই গণভোট কখন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী চায় আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ এই নভেম্বরেই গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। অন্যদিকে বিএনপি এই দাবির মধ্যে ‘দুরভিসন্ধি’ দেখছে এবং বলছে—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করাই সবচেয়ে যৌক্তিক।
এ বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তাহের বলেন, “আমরা মনে করি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট—এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত, এটাই যথার্থ। কারণ গণভোট হচ্ছে জুলাই সনদের ওপর জনমতের প্রতিফলন, আর জাতীয় নির্বাচন রাষ্ট্রক্ষমতা নির্ধারণের নির্বাচন। দুটি বিষয়ের চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ জাতীয় জীবনে পরিবর্তনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিগত ৫৫ বছরে এই ধরনের সংস্কারের সূচনা হয়নি।”
কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা
বৈঠক প্রসঙ্গে তাহের জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলের সামনে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরা, ভোটকেন্দ্রে সেনা, বিজিবি ও র্যাবের অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি, যাতে জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।”





