স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
আজ নির্বাচন কমিশনের আপিল ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত পাঁচটি আপিল শুনানি শেষে পাঁচটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—ঢাকা-১২ আসনে সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ভোলা-১ আসনে মোহাম্মদ আকবর হোসেন, পঞ্চগড়-২ আসনে মোহাম্মদ লুতফুর রহমান রিপন, কুমিল্লা-৯ আসনে মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শামীম হায়দার জানান, এ পর্যন্ত তাদের মোট ৩০টি আপিল শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি আপিল গ্রহণ করা হয়েছে এবং পাঁচটি আপিল গ্রহণ করা হয়নি। যেসব আপিল গ্রহণ হয়নি, সেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি নির্বাচনের একটি ট্রেন ইতোমধ্যেই চলা শুরু করেছে। মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই ও আপিল—এই ধাপগুলো সেই অগ্রযাত্রারই ফসল।” তবে একই সঙ্গে তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শামীম হায়দারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পুরোপুরি ভোটের জন্য প্রস্তুত নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মব পরিস্থিতি এখনো দৃশ্যমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে একটি “লো কাস্ট, লো ম্যান্ডেটের” নিকৃষ্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী সময়ে মব মিছিল, হামলা ও ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ভোট চাওয়ার বৈধ সময় শুরু হবে ২২ তারিখের পর। তার আগে বিভিন্ন নামে-বেনামে অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত কিছু সংগঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্টেকহোল্ডারের প্রক্সি হিসেবে অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নামছে, যার ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায়ও পড়ছে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে।
একই সঙ্গে ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে বিষোদ্গারকে দুঃখজনক আখ্যা দেন শামীম হায়দার। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ হীন উদ্দেশ্যে আমাদেরকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৬ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তিনি নিজে বিভিন্ন টকশোতে আন্দোলনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংসদে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং আবু সাঈদের মৃত্যুর পর একমাত্র শীর্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার কবর জিয়ারত করেছিলেন।
শামীম হায়দার আরও বলেন, রংপুর, মোহাম্মদপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রসমাজ সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। সেই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আল মামুন বর্তমানে এনসিপিতে থাকলেও, তখন তিনি জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজের সভাপতি ছিলেন এবং তাদের নির্দেশনাতেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন—এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে শামীম হায়দার বলেন, “আমরা মনে করি এর ভেতরে দেশ ধ্বংস, গণতন্ত্র ধ্বংস, ঐক্যমত ধ্বংস এবং সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের একটি গভীর ষড়যন্ত্র অন্তর্নিহিত রয়েছে।”
SEO ট্যাগ: মনোনয়ন বৈধ, নির্বাচন কমিশন, শামীম হায়দার, জাতীয় পার্টি, আপিল ট্রাইব্যুনাল, সংসদ নির্বাচন, ঢাকা ১২, ভোলা ১, পঞ্চগড় ২, কুমিল্লা ৯, কিশোরগঞ্জ ৬, আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোট, নির্বাচন প্রক্রিয়া





