স্টাফ রিপোর্টার | ৫ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের ভূমিকা বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রশাসনের বর্তমান আচরণ নির্বাচনকে কতটা নিরপেক্ষ করবে, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে সন্দিহান।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের পর আমরা ভেবেছিলাম প্রশাসনের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি রাজনৈতিক দলকে প্রশাসন যেভাবে নিঃশর্তভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের গভীরভাবে আহত করছে।”
তিনি বলেন, এভাবে যদি নির্বাচন পরিচালিত হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এই নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ এতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম হয়েছে, সেটির সঙ্গে প্রহসন করা হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে আজকের শহীদ ওসমান হাদি পর্যন্ত যারা জীবন দিয়েছেন—এই প্রশাসনিক নগ্ন আচরণকে যদি বিএনপি এন্টারটেইন করে, তাহলে তা শহীদদের রক্তের প্রতি অবমাননা হবে।”
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে বিএনপিকেও এই প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বসে কয়টি আসন পাওয়া যাবে—এমন সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করার কোনো অর্থ তিনি দেখেন না।
ডিসি ও এসপিদের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হলফনামা যাচাই থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে প্রশাসনের বায়াস আচরণ স্পষ্ট। এতে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি আজাদির আন্দোলনকে আরও দীর্ঘমেয়াদি করবে। তাই সরকার, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ছাত্রজনতা ও ভোটারদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা রক্ত দিতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে আরও জীবন যাবে। কিন্তু আজাদির এই সংগ্রাম চূড়ান্ত মুক্তি না আসা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।”





