বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কখনো আপস হয়নি, হবেও না: ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন

জিয়া পরিবার ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

স্টাফ রিপোর্টার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহবায়ক ও ঢাকা–৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন -এর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্প অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে -এর নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে গ্রহণ করেছে, তা তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনই স্পষ্ট হয়েছে। গত এক বছরে তারেক রহমানের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে উপস্থাপিত রূপরেখা দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, কূটনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে তারেক রহমান পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশগত বিপর্যয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনাও জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, উপমহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তির নানা স্বার্থের মধ্যেও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ড, পতাকা ও সংবিধান অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশকে কীভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়—সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, এবং বিদেশে কর্মরত ও কর্মপ্রত্যাশী শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে রপ্তানি খাত থেকে বৈদেশিক আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমেই এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো নাগরিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না—মুক্তিযুদ্ধই আমাদের পরিচয় দিয়েছে, স্বাধীন ভূখণ্ড দিয়েছে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়”—এই স্লোগানই আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বা পরবর্তী সময়ে আপস করা হলে আজকের বাস্তবতা ভিন্ন হতো মন্তব্য করে ইশরাক হোসেন বলেন, জিয়া পরিবার কখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেনি। জিয়া পরিবার শুধু একটি পরিবার নয়; তারা দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এই পরিবারের ওপর আঘাত মানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী জনগণের ওপর আঘাত।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও কারাবরণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। নিজেও কারাবরণের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন কারাজীবন কতটা কঠিন, তবুও আপসের পথ বেছে নেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি , মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব সহ মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।