স্টাফ রিপোর্টার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ভালোবাসার দৃশ্য দেখা গেছে দেশনেত্রীর জানাজায়—বাড়ির ছাদ পর্যন্ত মানুষ অংশ নিয়েছে। এই ভালোবাসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ছিলেন দৃঢ় অবস্থানে।
গুলশান চেয়ারপার্সন কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দেশনেত্রী তার পুরো জীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উৎসর্গ করেছেন। তিনি কারাবরণ করেছেন, অসুস্থ থেকেছেন, কিন্তু কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মাটি, মানুষ ও গণতন্ত্রের প্রতি এই অগাধ ভালোবাসাই মানুষকে আলোড়িত করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন তার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময় তার চলে যাওয়ায় মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত। সেই কারণেই জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে, চোখের পানি ফেলেছে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সমবেত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশনেত্রীর রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু পরিবারের নয়, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনকে খালেদা জিয়া যেভাবে সমুন্নত রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করবেন—এটাই মানুষের প্রত্যাশা।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে তার অনুপস্থিতি প্রভাব ফেলবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বরং দেশনেত্রীর প্রয়াণে যে আবেগ ও ভালোবাসা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা -কে আরও শক্তিশালী করবে।
কুলখানি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; পরে আলোচনা করে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এর আগে সকালে গুলশান কার্যালয়ে ছারছীনা দরবার শরিফের পীর সাহেবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করেন।





