বিজয় দিবস কেবল উদযাপনের নয়, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম সুসংহত করার শপথের দিন

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হবে গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়—আশা

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা

আগামীকাল মহান বিজয় দিবস। এই দিনটি উদযাপন করা সহজ হলেও বিজয় অর্জনের পথ যে কত রক্তক্ষয়ী ও ত্যাগের—তা অনুধাবন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, “মাত্র নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তার পেছনে ছিল সীমাহীন ত্যাগ, আত্মদান ও শহীদের রক্ত। আমরা অনেকেই সরাসরি বিজয় দেখেছি, কিন্তু নতুন প্রজন্ম সেই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত। তাই ইতিহাস জানাটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬–১৭ বছরের বিরামহীন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েও বাংলাদেশ নতুন এক বিজয়ের মুখ দেখেছে। তবে এই বিজয় যদি সুসংহত করা না যায়, তাহলে তা হবে অরক্ষিত স্বাধীনতার মতো—যার পরিণতি আবারও পরাধীনতা।

গণতান্ত্রিক বিজয়কে প্রাতিষ্ঠানিক করার আহ্বান

তিনি বলেন, “যুদ্ধজয়ের পর যেমন সেনাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে দিলে বিজয় সংহত হয় না, তেমনি ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক বিজয় এসেছে, তাতে আমরা নিষ্ক্রিয় হলে এই অর্জন টেকসই হবে না।”

তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে অপমানিত করার চেষ্টা চলছে। দেশি–বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতনের এই বিজয়কে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গ

বক্তব্যে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন ইনশাল্লাহ। এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “একজন নাগরিক হিসেবে যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে প্রতিনিয়ত পাহারা দিতে হবে।”

স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সাল থেকেই আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ইতিহাস দলীয়করণ ও বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “আমাদের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে দলিলভিত্তিকভাবে।”

ইতিহাস জানার আহ্বান

শেষে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার দলিল, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস, যুদ্ধের প্রকৃত বর্ণনা—সবকিছু আমাদের পড়তে হবে, জানতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক, মেধাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে ইতিহাস জানার কোনো বিকল্প নেই।”