ব্যক্তির স্বৈরাচার রোধে আইনসভার উচ্চকক্ষ প্রয়োজন: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিশ্চিত হবে, মতবিনিময় সভায় মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ভবিষ্যতে ব্যক্তিবিশেষের স্বৈরাচারী শাসন রোধের লক্ষ্যেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী । তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যক্তি নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ওপর নির্ভর করাই একমাত্র পথ।

সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে জনগণ ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার মতামত প্রতিফলনের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুললেই স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব।”

রাষ্ট্রের গত ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দলীয়করণ ও ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তরুণরা সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) , রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এটি একটি ভিত্তি তৈরির নির্বাচন। রাষ্ট্রব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন এনে তা আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই, এটি আমাদের সবার এজেন্ডা।” ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই বলেও তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সকল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান।