ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে নির্বাচন কমিশনকে বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৫ লাখ ভোটারের নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, কেন তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কারণও নির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশটি বিহারে “বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা” (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষিতে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের মূল নির্দেশাবলী:
- প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে বাদ পড়া ৬৫ লাখ ভোটারের জেলাভিত্তিক তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
- কারণ উল্লেখ: প্রতিটি নামের পাশে তাদের বাদ পড়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে, যেমন – মৃত্যু, স্থানান্তর (migration) অথবা একাধিক জায়গায় নাম থাকা (duplication)।
- আধার কার্ড গ্রহণ: আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, যে সমস্ত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তারা যদি তালিকায় নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তাহলে আধার কার্ডকেও পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
- জনসচেতনতা: এই তালিকা প্রকাশের বিষয়টি স্থানীয় সংবাদপত্র, দূরদর্শন, রেডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের নাম যাচাই করতে পারে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার: বিচারপতিরা বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এবং ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাই এই প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই নির্দেশটি বিহারের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা এটিকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বলছে যে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই তথ্য সরবরাহ করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে আগামী ২২শে আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।





