স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় মাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ও মোবাইল ফোনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল, মো. আজম এবং মো. আরমান দেওয়ান।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিও ফুটেজে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওরশ চলাকালে একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে ভক্ত ও জিয়ারতকারীদের মারধর করে। এ সময় মাজার এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। হামলাকারীরা উপস্থিত লোকজনকে সেখান থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী রেশমি বেগম অভিযোগ করেন, ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর, ছিনতাই এবং নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এখনো ভিন্নমত রয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র তাদের জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।





