মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ অব্যাহত থাকবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে কল্যাণ, পুনর্বাসন ও ইতিহাস সংরক্ষণে জোর

সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে কল্যাণ, পুনর্বাসন ও ইতিহাস সংরক্ষণে জোর
স্টাফ রিপোর্টার | ৬ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে এবং সেই অর্জনকে সুসংহত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, নির্যাতিত মা-বোন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া-এর হাত ধরে ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে কাজ করে আসছে।

কল্যাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

  • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণা ও প্রকাশনা
  • মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদ
  • আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান ও চিকিৎসা সুবিধা
  • গণকবর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ
  • জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসন

প্রতিমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৪ জন শহীদ এবং ১৪,৩৬৯ জন যোদ্ধার গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আহতদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে এককালীন অনুদান ও মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান

তিনি জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে—যার মধ্যে ৯২ জন ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন। এছাড়া ৩,৪২৫ জন জুলাই যোদ্ধার কর্মসংস্থানের জন্য ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে অনেককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন অধিদপ্তর ও আইন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশাপাশি “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন আইন, ২০২৬” এবং “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬” ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—দুটি আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শক্তি দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য এই অর্জনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুসহ অন্যান্যরা।