শোলাকিয়া ঈদগাহে ১১০০ পুলিশসহ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম বৃহত্তম ঈদের জামাত

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবারও নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পুরো ময়দান ও আশপাশ এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে একাধিকবার শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ঈদের দিন এখানে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার মাঠে দায়িত্ব পালন করবে মোট ১১০০ জন পুলিশ সদস্য, যার মধ্যে সাদা পোশাকের সদস্যও থাকবে। এছাড়া র‌্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী এবং ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে ৪টি ওয়াচটাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২টি পুলিশ ও ২টি র‌্যাব ব্যবহার করবে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা। ঈদের দিন মাঠে প্রবেশের জন্য থাকবে ১৩টি আর্চওয়ে এবং নজরদারিতে থাকবে ড্রোন ক্যামেরাও। এছাড়া ঢাকা থেকে আসবে বিশেষ বোম ডিসপোজাল টিম।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট, ৬টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম এবং দায়িত্ব পালন করবেন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ নিয়ে মাঠে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২৮টি প্রবেশপথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির পর মুসল্লিদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের আগের দিন থেকে শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হবে।

ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের বৃহত্তম জামাত, যা সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন বড় বাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

ঐতিহাসিকভাবে, ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর তীরে ৭ একর জমির ওপর এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ। তার ইমামতিতেই এখানে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক সময় এখানে সোয়া লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটায় এর নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা পরবর্তীতে উচ্চারণের পরিবর্তনে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি এই ঐতিহাসিক ঈদের জামাতে অংশ নিতে আসেন।