সরকার গঠন পুলিশের কাজ নয়, ব্যালটের মাধ্যমেই ক্ষমতা নির্ধারণ হবে

নিরপেক্ষ না হলে প্রশাসনকে অতীতের পরিণতি ভোগ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

সরকার প্রতিষ্ঠা করা পুলিশের বা প্রশাসনের কাজ নয়—ব্যালটে সিল দিয়ে সরকার গঠন করবে জনগণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো জনগণ যেন নির্ভয়ে ও সুষ্ঠভাবে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, আমরা সম্মানিত পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা বিগত তিনটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন। আপনারা যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে।

তবে নিরপেক্ষতা না দেখালে অতীতের কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তার পরিণতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অন্যথায় বেঞ্জির ও হারুনদের মতো পরিণতি আপনাদের বরণ করতে হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু আমলা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যার ফলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছে এবং তাদের আগুন-সন্ত্রাসী হিসেবে মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সেই ব্যক্তিদের অনেককেই আবার বুকে টেনে নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপি নেতা বলেন, বাংলাদেশ আজ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ চায় গোলামি, আরেক পক্ষ চায় আজাদি। এক পক্ষ চায় পরাধীনতা, অন্য পক্ষ চায় স্বাধীনতা। এক পক্ষ চায় ভারতীয় তাবেদারি, আরেক পক্ষ চায় বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা আজাদি চাই, আমরা চাই বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা। কে সরকার গঠন করবে এবং কে দেশ পরিচালনা করবে—এই সিদ্ধান্ত কোনো বিদেশি শক্তি বা দিল্লি থেকে নির্ধারিত হবে না; এটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশকে একটি কলোনিয়াল রাষ্ট্রের মতো পরিচালনা করা হয়েছে। বিদেশি এজেন্টের মাধ্যমে সরকার টিকিয়ে রাখার যে চর্চা, তা থেকে দেশকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে ফিরে যেতে চায় না। দেশের মসনদে কে বসবে—এই সিদ্ধান্ত আসবে একমাত্র জনগণের ভোটের মাধ্যমে, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই।