সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচনই জাতীয় প্রত্যাশা: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি নেতার মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশের জনগণ একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একটি নির্বাচিত ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠন হোক।
মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, সামনের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু স্থানে উগ্রতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। একটি সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইইউ–বিএনপি বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন,
বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক গড়ে উঠবে, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা কীভাবে বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হবে—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস, অতি-নিয়ন্ত্রণ (over-regulation), ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক রুল-বেসড অর্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা—এসব ক্ষেত্রেও বিএনপির পরিকল্পনা ইইউর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন,
“নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। আমাদের সংখ্যা এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গায় নেই, তবে নির্বাচন যত এগোবে তত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশে সাংঘর্ষিক রাজনীতি আমরা চাই না। বহু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও দেশের স্বার্থে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলালে শত সংস্কার করেও দেশ বদলানো যাবে না।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন,
ইইউ একটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ-ভিত্তিক, মানবাধিকারসম্মত এবং রুল-বেসড অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিচালিত নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়। বিএনপিও এই নীতিতে বিশ্বাস করে, তাই এ বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই।