স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর এক বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল—যা ‘সেভেন সিস্টারস’ নামে পরিচিত—বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সেভেন সিস্টারস বিচ্ছিন্ন করার হুমকিতে ভারত চুপ করে থাকবে না।” এই বক্তব্যকে ঘিরে দক্ষিণ এশীয় কূটনীতিতে চিরচেনা এক চিত্রই যেন আবার সামনে এলো— প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক বক্তব্যকে ‘হীন মানসিকতা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া, সাহায্য বন্ধের হুমকি ছুড়ে দেওয়া এবং শক্তির ভাষায় পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রবণতা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর ভাষা যুক্তির চেয়ে শক্তির বহিঃপ্রকাশই বেশি। প্রশ্ন উঠছে—এত আত্মবিশ্বাসের আড়ালে কি কোনো ভয়ের ছায়া লুকিয়ে আছে?
ভৌগোলিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক অস্বস্তি
হেমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন করার কল্পনাই ভুল। অথচ বাস্তবতা হলো—ভারতের নর্থইস্ট অঞ্চল আজও দিল্লির কাছে ভৌগোলিকভাবে সংবেদনশীল, রাজনৈতিকভাবে নাজুক এবং ঐতিহাসিকভাবে অবহেলিত।
মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এই অঞ্চলের একমাত্র স্থল সংযোগ ‘চিকেন নেক’ করিডর, যা বহুদিন ধরেই নিরাপত্তা ও কৌশলগত দুর্বলতার প্রতীক। বিশ্লেষকদের মতে, “চুপ থাকবে না”—এই হুঁশিয়ারি আসলে যুক্তির নয়, শক্তির ভাষা।
করিডর দেখিয়ে শান্তি আসে কি?
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সেভেন সিস্টারস অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে বলেছিলেন, সাগরে যাওয়ার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে বাংলাদেশই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জবাবে দিল্লি ‘চিকেন নেক’ দেখিয়ে পাল্টা ভয় দেখানোর কৌশল নেয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাদ দিয়ে করিডর আর সংকীর্ণ পথ দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় না।
বাংলাদেশকে হুমকির চোখে দেখার রাজনীতি
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সীমান্ত, পানি বণ্টন ও বাণিজ্য ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সমতার চোখে না দেখে সবকিছুকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখার মানসিকতা কি ভারতের কূটনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন—সে প্রশ্নও উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্যের ভাষা নয়, প্রয়োজন সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। প্রতিবেশীকে ছোট করে হুমকি দিয়ে বা সাহায্য বন্ধের কথা বলে কেউ সত্যিকারের ‘বড়’ হয়ে ওঠে না।
শক্তি প্রদর্শন সহজ, কিন্তু দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দেখানোই হলো আসল পরীক্ষা।





