খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি ভুল, বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ

যক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমদানিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমার আশা, ডিমের দাম আর কমানো উচিত নয়: বিদায়ী উপদেষ্টা

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১০ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ—এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী এক সরকারি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে গম, ভুট্টা, তেলবীজ, চিনি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত।

তার ভাষায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার যে ধারণা তুলে ধরেছিলেন, বাস্তব পরিসংখ্যান তা সমর্থন করে না। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যচাহিদা মেটাতে আমদানি অনিবার্য।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমদানি বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের ট্রেড ডিল বিশ্বে খুব কম দেশই পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিমের বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি খামারিদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ডিমের দাম আর কমানো উচিত নয়। এক সময় ডিমের দাম ১৮০ টাকা হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে ২৯ কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে আমদানি হয় প্রায় ১১ লাখ ডিম, যা মাত্র ১০–১৫ মিনিটের জাতীয় চাহিদা পূরণ করতে পারে। এরপর ডিমের দাম ১৮০ টাকা থেকে নেমে আসে ১৪৫–১৫০ টাকায়, বর্তমানে যা প্রায় ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এই দামের নিচে উৎপাদন ব্যয় টেকসই নয় বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির আওতায় ছোট ও বড়—সব খামারিকেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বিদায়ী বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনুসন্ধানী প্রশ্নের মাধ্যমে গণমাধ্যম তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছে, যা ভুল সংশোধনে সহায়ক হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতিতে জড়াননি এবং সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

নতুন সরকার গঠনের পর তিনি তার পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন বলেও জানান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অনুরোধ করেন তাকে ভুলে যাওয়ার।

বাংলাদেশ | খাদ্য আমদানি | বাণিজ্য ঘাটতি | ডিমের দাম | কৃষিপণ্য | অর্থনীতি | খামারি | যুক্তরাষ্ট্র | শেখ হাসিনা