জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদ ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হবে: ড. ইউনুস

অর্থনীতি পুনর্গঠন, ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ, প্রবাসী ভোট ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরলেন তিনি

স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরে ড. ইউনুস বলেছেন, এই সনদ কার্যকর হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেশের মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। ছোট-বড় নানা বিতর্ক থাকলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনও ভুলবে না। সনদ প্রণয়ন ও গণভোটে পাশ করাতে যেসব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অধিকারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের সবাইকে তিনি অভিনন্দন জানান।

ড. ইউনুস বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল চরম সংকটে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, অর্থপাচার ছিল লাগামহীন এবং বিপুল ঋণের চাপ ছিল। তিনি দাবি করেন, আগের সরকার অর্থনীতিকে তলাবিহীন অবস্থায় রেখে গিয়েছিল এবং ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি, টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাজার তদারকি জোরদারের ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে ড. ইউনুস বলেন, বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রবাসী যাতে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরি করা হবে।

শ্রমিক অধিকারের বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুমোদন এবং নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ এখন সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে বিশ্বে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ইস্যু পুনরায় গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর এবং বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার টেকসই সমাধানে নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, দায়িত্ব শেষে এখন স্বস্তি পাচ্ছেন যে সংকট মোকাবিলা করে একটি নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে রেখে যেতে পেরেছেন।