স্টাফ রিপোর্টার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের আইনানুগ কাজে অবৈধভাবে কেউ বাধা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। তবে পুলিশের কাজেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসিদের নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এতে অনেককে এমন জায়গায় দেওয়া হয়েছে যেখানে তাদের যাওয়ার কথা ছিল না। এসব পদায়ন সার্ভিস রেকর্ড ও দক্ষতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল। লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান।
রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে পুলিশ সুপারদের প্রটোকল না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনাই সরকারের লক্ষ্য। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশের ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া কিছু মামলায় নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে জড়ানোর অভিযোগ এসেছে। এসব মামলা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুনরায় কমিশন গঠন করে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ বলেও জানান তিনি।
বিগত সরকারের সময়ে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনরায় যাচাই করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের লাইসেন্সও বাতিল হবে।
পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে অভ্যস্ত নন। এ সুযোগে কিছু দালাল চক্র এবং সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে কাজ করা সহায়তাকারীদের তালিকাভুক্ত করে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালুর চিন্তা রয়েছে। সফল হলে সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।





