খাল খনন প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন, সেচ পাবে ১৫ হাজার হেক্টর জমি

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং কৃষি, মৎস্য ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে এবং দুর্নীতির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, যতই শক্তিশালী হোক না কেন, খাল দখলদারদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত বামনসুন্দর খালের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এতে করে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

উদ্বোধন শেষে মিরসরাই মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মসূচি একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়, তাই ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র বদলে যাবে। একটি খালের কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এতে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারের খালের মালিকানা রয়েছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখার সুযোগ পাবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা সরকারের লক্ষ্য। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা বর্তমানে খুব ভালো নয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। এর মধ্যেও সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল, যা কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে আয়োজিত সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খান, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম এবং মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।