‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইস্টার সানডে উপলক্ষে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুখী, সমৃদ্ধ ও ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, সবাই মিলে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে একটি বেটার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই।”

রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশ-এর সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে বড়দিনের অগ্রিম আমন্ত্রণ জানান এবং একটি সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সব ধর্মের মানুষকে সমানভাবে দেখি ও ভালোবাসি। ধর্ম যার যার, দেশ সবার। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সবার।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রচলিত ধারণা ছিল যে অন্য ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দেন না, তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে সব ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতির মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যা অনেকটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মতো ছিল।

তিনি জানান, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে নতুন সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার খ্রীস্টেফার এম. অধিকারী।

নেতৃবৃন্দ বিএনপি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় সংসদে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত নারী আসন ও ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলেন, দেশের হাজারো চার্চে তাঁর জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের জন্যও নিয়মিত প্রার্থনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দাবিসমূহ বিবেচনার আশ্বাস দেন।