অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডে সুন্দরবনের কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক, ৪ জেলে উদ্ধার

সুন্দরবনে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, জিম্মিদশা থেকে মুক্ত চার জেলে

আজাদ রুহুল আমিন বিশেষ প্রতিনিধি বাগেরহাট ১৭ মে ২০২৬।

বাগেরহাট: সুন্দরবনে পরিচালিত “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।

আজ দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বাসসকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পাওয়া যায় যে, কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ রোববার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলটি পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলো মো. রবিউল শেখ (৩০), বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা এবং রাজন শরীফ (২০), বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ড জানায়, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।