গণমাধ্যমের জন্য স্বাধীন ও শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিয়ন্ত্রণ নয়, অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে আধুনিক আইনি কাঠামো গড়ার কথা বললেন জহির উদ্দিন স্বপন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক সভ্যতার অন্যতম উপাদান গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার একটি স্বাধীন, দক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “অতীতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কেবল নিয়ন্ত্রণের, কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে একটি স্বাধীন আইনি কাঠামোর আওতায় গণমাধ্যমের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নবগঠিত টেলিভিশন সম্পাদক পরিষদ–এর আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হলে এর সুফল জনগণ পাবে। সরকার, গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক ও সম্প্রচারকর্মী—সবাইকে অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমঅধিকারের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

গণমাধ্যমকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কর ফাঁকি বা অবৈধ আয় আড়াল করতে কেউ যেন গণমাধ্যমের মালিকানা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার।

তিনি আরও বলেন, শ্রম আইন, ওয়েজ বোর্ড, নিয়মিত বেতন-ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা এবং ট্যাক্স-ভ্যাটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সুযোগ থাকবে না।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন ন্যানো টেকনোলজি ও Artificial Intelligence–এর যুগে প্রবেশ করেছে। এআই মানুষের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার প্রভাব বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে বেশি।

তিনি জানান, গণমাধ্যম খাতের ব্রডকাস্টিং, সাউন্ড ও গ্রাফিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল তৈরিতে রাষ্ট্র উদ্যোগ নেবে।

পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে অসত্য তথ্য দেওয়ার সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ডিজিটাল টিআরপি সিস্টেম এবং ডিজিটাল প্রিন্ট কাউন্টিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন বণ্টন করা হবে।

তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পাশাপাশি সরকার নীতিগত সংস্কারেও গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ৩১ দফা ইশতেহারের আলোকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পুরোনো আইন ও নীতিমালাকে আধুনিক ও কল্যাণমুখী করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে টেলিভিশন সম্পাদক পরিষদের আহ্বায়ক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক এবং সদস্য সচিব জোবায়ের বাবুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।