বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমই রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনগণকে সঠিক ধারণা দেয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য বিকৃত হলে সমাজে বিভ্রান্তি, সংঘাত ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়; এআই যুগে আইন আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ


স্টাফ রিপোর্টার | ৩ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম যত বেশি দায়িত্বশীল ও নির্ভুলভাবে কাজ করবে, জনগণ তত বেশি রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে এবং সে অনুযায়ী মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। তবে তথ্য বিকৃত হলে সমাজে বিভ্রান্তি, সংঘাত ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ ও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ শুধু তথ্যের জন্য নয়, বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়েও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে। তাই বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপরই নির্ভর করে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আয়না যেমন নিখুঁত না হলে মানুষের চেহারার বিকৃত প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, তেমনি গণমাধ্যমও যদি বস্তুনিষ্ঠ না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হবে। সত্য বিকৃত হলে সমাজে নানা ধরনের সংঘাত ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এমনকি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও নাগরিকরা বিচার বিভাগের কাছেই প্রতিকার চান। ফলে বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনকারী সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেশি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে নতুন সুযোগের পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবের মতো ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তাই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে দেশের সাইবার আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ একটি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইসিটি মন্ত্রীসহ তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইন প্রণয়নে ল’ রিপোর্টার, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার এ বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের জটিল বিশ্বকে মানুষের জন্য আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।