বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকতা ও রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না, বললেন ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন

স্টাফ রিপোর্টার | ০২ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন, আর নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় যাবেন। দুটি একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদ এবং ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন একটি বিধান থাকা উচিত, যাতে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে আগে চাকরি ছেড়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নে যে বিনিয়োগ করছে, তা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতি গঠনে যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। বর্তমানে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে নজরদারির প্রয়োজন হচ্ছে না। শিক্ষক, অভিভাবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতার কারণে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ড্রপআউট হার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর মেয়েদের বিয়ে এবং ছেলেদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা ছিল। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সিলেবাস উন্নয়নের মাধ্যমে ড্রপআউট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আদালতের লিখিত আদেশ এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে পৌঁছায়নি। আদেশ পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট মিলিয়ে মোট ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।

এ সময় ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এডিবি, ব্রিটিশ হাই কমিশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।