স্টাফ রিপোর্টার | ২ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাটি অপসারণ এবং এ কারণে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে ছড়ানো তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভায়াডাক্টের নিচের মাটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে কাটা হচ্ছে না। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষে পূর্বের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাটি কাটা হয়েছে—এটি সত্য হলেও যে উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছে, সেটি অনেক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি। বরং অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় ভায়াডাক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় এলাকাটি ছিল জলাভূমি। ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে প্রকল্প চলাকালে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষে সেই অস্থায়ী মাটি অপসারণ করে জমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া চুক্তিরই অংশ।
তিনি বলেন, পুরো কাঠামো বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে। মাটি অপসারণের সঙ্গে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই; বরং এটি পরিবেশ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ।
মন্ত্রী আরও বলেন, এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অবশিষ্ট অংশের মাটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী মাটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে।
ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এর নকশা ও নির্মাণে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





