স্টাফ রিপোর্টার | ২২ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আসিম মুনির তেহরানে আলোচনায় যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা এখন চুক্তি ও নতুন হামলার ‘সীমারেখায়’ অবস্থান করছে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আসিম মুনিরের ভূমিকা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
রুবিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল আজ তেহরান সফর করবে। আশা করা যায়, এটি আলোচনাকে আরও কিছুটা এগিয়ে নেবে।”
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি। সরাসরি সংঘাতের বদলে এখন চলছে বাক্যুদ্ধ, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে।
বৃহস্পতিবার আইএসএনএ জানায়, আসিম মুনিরের সফরের উদ্দেশ্য হলো ইরান সরকারের সঙ্গে “আলোচনা ও পরামর্শ” চালিয়ে যাওয়া। যদিও সফর নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গত এপ্রিলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল প্রথম আলোচনা। ওই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আসিম মুনির। তিনি দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়।
তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটন ‘অতিরিক্ত দাবি’ তুলেছে।
এরপর থেকে দুই পক্ষ একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও রয়ে গেছে। ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি এখন একেবারে প্রান্তসীমায় রয়েছে। আমরা সঠিক উত্তর না পেলে খুব দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, সমঝোতা “খুব দ্রুত” অথবা “কয়েক দিনের মধ্যে” হতে পারে। তবে এজন্য তেহরানকে “শতভাগ সন্তোষজনক উত্তর” দিতে হবে।
ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে রুবিও বলেন, ইরানবিরোধী যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট।
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন আবার যুদ্ধ শুরু করতে চাইছে। ইরানের ওপর হামলা হলে “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতিতে সংঘাত বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালী এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়।
হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের আগে মজুত করা তেলের ভাণ্ডার কমে আসায় বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





