স্টাফ রিপোর্টার, ৫ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নতুন করে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এ ধরনের প্রচেষ্টা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খানও উপস্থিত ছিলেন।
আহমেদ আজম খান বলেন, একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়ে গণতন্ত্রহীনতার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতাবিরোধীরা নতুন করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।
সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। জাদুঘরটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে পরিচিত। ১৯৮১ সালে এই ভবনেই কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি নিহত হন। জাদুঘরে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, জীবনের নানা স্মৃতি, ঐতিহাসিক দলিল এবং স্বাধীনতার ঘোষণার ট্রান্সমিটারসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় গত ডিসেম্বরে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দেয়াল, ছাদ ও সিঁড়িসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তাঁরা।
ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁদের প্রজন্ম বিগত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে ধারণ করে সংগ্রাম করেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৩৬ বছর বয়সী তরুণ মেজর হিসেবে জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর জাদুঘরটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ হামলার পেছনে কারা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে এসে অন্য একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
ইশরাক বলেন, যারা ১৯৭১ সালে গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তারা যদি মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করতে চায় এবং জিয়াউর রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সরকার জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স সংরক্ষণে আন্তরিক। আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে এসব স্থাপনা সংরক্ষণ জরুরি। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করে জাদুঘরটি আবারও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় অবস্থিত জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কমপ্লেক্সটি নতুনভাবে উন্নয়নের ঘোষণা দেন।
দিনব্যাপী সফরে তাঁরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন। দুপুরে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও যান, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল।





