মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা

আইন সংশোধন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হবে, বিভাগীয় পর্যায়ে হবে ২০০ শয্যার সরকারি নিরাময় কেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার | ২৬ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সরকার সে অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত করা হবে এবং কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র দেওয়া হবে।

তিনি জানান, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক সংকটের কারণে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না। তাই সংশোধিত আইনে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক শনাক্তে আধুনিক ডগ স্কোয়াড, আসামিদের জন্য হাজতখানা এবং দেশের প্রতিটি জেলায় উন্নত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও অর্থপাচার বেড়েছে। এসব অপরাধ দমনে আইনি কাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থ জোগানদাতা ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাদকের অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য নতুন সংশোধনীতে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে এবং আরও ২৩টি গুরুতর অনুসন্ধান চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর উত্তরায় কিটামিন তৈরির ল্যাব আবিষ্কার প্রমাণ করে অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তারও উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তরা অপরাধী নন, তারা রোগী। তাই তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, মাদক কোনো একক দেশের বা সংস্থার পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের থিম সং প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ বছরের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।