স্টাফ রিপোর্টার | ৮ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সাংবিধানিক সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন এককভাবে কখনো টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারবে না। এজন্য রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতা ও মনস্তত্ত্বে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (ইউট্যাব) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, জুলাই চার্টারের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন, নতুন আইন প্রণয়ন কিংবা রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতা ও মনস্তত্ত্ব পরিবর্তন না হলে সবকিছু আবার স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যেতে পারে।
রাজনৈতিক ভণ্ডামির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য তীব্র আন্দোলন করেছিলেন। অথচ পরে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের সুপারিশ উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সেই ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, জামায়াত আমীরের বাসায় আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ, ৭ মার্চের ভাষণ ও জুলাই অভ্যুত্থানের ছবি থাকলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা উল্লেখ ছিল না। তিনি বিষয়টিকে ‘গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
ভারতের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশটি একজন পলাতক ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগ—তিস্তা ব্যারেজ মাস্টার প্ল্যান, চীন সফর এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডরের জবাবে কি ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা হচ্ছে?
রিজভী প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রবর্তন, খাল খনন অভিযান এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অবহেলার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা কৃত্রিম সংকট ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারের নির্বিঘ্ন শাসন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।





