দেশ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মানবিকতা, পরিবেশ ও জনসচেতনতায় মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ০৯ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনরত উপজেলা নিজের উপজেলা না হলেও সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতো আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করেও অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। এজন্য ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগাতে চান। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন ১০টি গাছের পরিবর্তে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।

খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। জাতীয় দিবসের অপেক্ষা না করে স্থানীয় বিভিন্ন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর কারণ হতে পারে। এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে। তাই মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে ইউএনওদের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ বিষয়ে শিশুদের সচেতন করতে বিভিন্ন স্কুলে যাওয়ার জন্যও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতি, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউএনওরা সরকার ও জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খননের ফলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, সেচ ব্যবস্থা ও কৃষিকাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ জন ইউএনওসহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।